আবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ হাজার ৩৬৩ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন আইন ভঙ্গের অভিযোগে নতুন করে আরও প্রায় ১৪ হাজার অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় সাত হাজারই আবাসন আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। বাকিরা সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং স্থানীয় শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ধরা পড়েন। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া হিসেবে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি (ট্রাভেল ডকুমেন্ট) সংগ্রহের জন্য কয়েক হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নির্দেশনায় রাখা হয়েছে।
এদিকে অবৈধ বাসিন্দাদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন সুবিধা প্রদান কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধ প্রবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা যেকোনো ধরনের সহায়তা দেয়, তবে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে বিপুল অঙ্কের জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।