২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উদ্বোধন হলো “মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক”

বিখ্যাত ইসলামি রাজনীতিবিদ এবং দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুজুর্গ আলেম বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহমাতুল্লাহি আলাইহির নামে রাজধানীর গোলাপ শাহ মাজার থেকে চকবাজার পর্যন্ত সড়কটি আবারও নামকরণ করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসি) সড়কের নামটি পুনর্বহাল করছে। এখন থেকে আবারও সেই সড়কের নাম হলো “মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক”।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের নামে সড়ক উদ্বোধনের মতো মহৎ কাজ করতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি ছিলেন আমাদের ধর্মীয় নেতা এবং যাকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মুসলমান আজ ইসলামের পথে আছে। তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু এই সড়ক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তার যে অগ্রযাত্রা সেটাতে কিছুটা হলেও শরিক হতে পেরেছি বলে আমি মনে করছি।

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর ও হাফেজ্জী হুজুরের নাতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী “হাফেজ্জী হুজুর সড়ক” নাম পূনর্বহাল রাখায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, নায়েবে আমীর ও হাফেজ্জী হুজুরের দৌহিত্র মাওলানা সাঈদুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব ও হাফেজ্জী হুজুরের নাতি মাওলানা সানাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতী সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, আলহাজ্ব এডভোকেট মোহাম্মদ লিটন চৌধুরী ও মাওলানা ইলিয়াস মাদারীপুরীসহ অনেক আলেম ও নেতৃবৃন্দ।

অবিভক্ত ঢাকার মেয়র থাকাকালে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ওই সড়কটির নামকরণ করেন “হাফেজ্জী হুজুর সড়ক”।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এই নামকরণ বাতিল করে। ওই একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হাফেজ্জী হুজুর ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতিব মুফতী আমিমুল ইহসান (রহ.) এর নামে সড়কের নামকরণ বাতিল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনা মোতাবেক সড়ক দুটির সব স্থাপনা থেকে নাম দুটি মুছে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তৎকালীন সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক সমালোচনা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। কিন্তু কোনোকিছুই তোয়াক্কা করেনি আওয়ামী লীগ সরকার।