তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়ের মধ্যে আস্থাভোটে জয় পেয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থালাপতি বিজয়। রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত এই আস্থাভোটে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
ভোটের ফল অনুযায়ী, মোট ১৪৪ জন বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি এবং ৫ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন। এর মাধ্যমে কার্যত রাজ্যের নতুন সরকারের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত হয় এবং বিজয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন স্থিতিশীলতা পায়।
আস্থাভোট চলাকালে বিরোধী দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগম (ডিএমকে)-এর ৫৯ জন বিধায়ক অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। অন্যদিকে তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগম (এআইএডিএমকে)-এর ৪৭ জন বিধায়ক ভোটদানে অংশ নেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থালাপতি বিজয় বলেন, “হুইসেল (তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম-এর প্রতীক) ইতিহাস বদলে দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, তার সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। তিনি নিজের প্রশাসনকে “সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষাকারী সরকার” হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তবে আস্থাভোটের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল এআইএডিএমকে শিবিরে বিভক্তি। দলের ২৫ জন বিধায়ক দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও নেতৃত্বের দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকার রাজনৈতিক উত্থান এবং এমন দ্রুত আস্থাভোটে জয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রধান দুই দ্রাবিড় দলের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।