২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয়

র‍্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরতেন সেনা সদস্যরা: জবানবন্দিতে জেনারেল ইকবাল

র‍্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরতেন সেনা সদস্যরা: জবানবন্দিতে জেনারেল ইকবাল

সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব) পেশাদার অফিসার পাঠানো হলে তারা দায়িত্ব পালন শেষে “পেশাদার খুনি” হয়ে ফিরে আসতেন—এমন বিস্ফোরক ও উদ্বেগজনক জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তাঁর এই বক্তব্যে বাহিনীগুলোর পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার নৈতিক দিক নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শতাধিক মানুষকে গুম-খুনের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমাকে যে জিনিসটা সবচেয়ে ব্যথিত করত, তা হলো আমরা সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাবে পেশাদার অফিসার পাঠাচ্ছি আর তারা পেশাদার খুনি হয়ে ফেরত আসছে। এরপর আমি সিদ্ধান্ত দিই—র‍্যাব, ডিজিএফআই এবং বিজিবিতে কোনো অফিসার পোস্টিংয়ে যাওয়ার পূর্বে ও পরে আমার ইন্টারভিউতে আসবে। যারা র‍্যাবে যেত তাদেরকে আমি এই বলে মটিভেট করতাম—নরহত্যা মহাপাপ এবং কাউকে হত্যা করলে তার পরিবারের অভিশাপ তোমার পরিবারের ওপর পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আমি তাদের আরো বলি, একজনকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। সত্যিকারের সাহস হচ্ছে হাত-পা খুলে তার হাতে একটি অস্ত্র দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া। যারা ফেরত আসত তাদের কাছে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আমি সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর র‍্যাব সদস্যদেরকে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য আবেদন জানাই। তিনি স্বীকার করলেন, র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর চাইতেও খারাপ। তিনি কোনো কথা দেননি এবং পরে এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমি ইন্টারভিউতে আসা অফিসারদের এই বলে সাহস জোগালাম, যদি কাউকে কোনো কিলিং মিশনের জন্য বলা হয় সে যেন আমাকে সরাসরি ফোন করে। আমি তাদেরকে সেনাবাহিনীতে সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিয়ে আসব এবং পুনর্বাসিত করব। আমার পাশাপাশি যারা র‍্যাবে নতুন যাচ্ছেন তাদেরকে মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল আনোয়ার, ডিএমআই এবং আমার পিএস কর্নেল সাজ্জাদ মোটিভেট করতে থাকেন। কিছুদিন জগলুল আমাকে এসে জানান, মোটিভেশনে কোনো কাজ হচ্ছে না। র‍্যাবে যোগদানের পরে অফিসারদেরকে ডিমোটিভেট করা হচ্ছে। তবুও দুজন অফিসারকে যখন প্রথম রাতেই কিলিং মিশনে যেতে বলে, তারা সেখান থেকে চলে এসে ঢাকা সেনানিবাসের এমপি চেকপোস্টে রিপোর্ট করেন। আমি তাদেরকে সসম্মানে সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করি।

Home R3