প্রশিক্ষণ নিয়ে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ

বাংলাদেশে বিনা খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রচলিত অভিবাসন কোটা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র বাইরে থেকেও বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করলে ‘আর্টিকেল ২৩’-এর আওতায় কাজের উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো আবেদনের দিন বা ‘ক্লিক ডে’ নেই।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, ইতালিতে বর্তমানে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে ৮০ হাজারের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। এদিকে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইতালির।

আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় ইতালি যেতে বাংলাদেশে থেকেই তিন ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এগুলো হলো ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, দেশটির নাগরিক ও সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা এবং সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ডেকরেতো ফ্লাসির নির্ধারিত কোটা ছাড়াই কাজের জন্য ইতালি যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সেমিনারে বক্তারা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইতালি সরকার পর্যবেক্ষণ করে। এতে অর্জিত দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান ইতালিতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও কাজে লাগবে।

অনুষ্ঠানে ইতালির ভিসার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা ও ভিএফএস ফি মিলিয়ে সর্বোচ্চ খরচ ১৫৪ ইউরো। অথচ দালালরা একই ভিসার জন্য ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দাবি করছে। তাই দালালের পরিবর্তে ইতালি দূতাবাস ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে সঠিক তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইতালিতে পৌঁছানোর আট দিনের মধ্যে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। কর্মচুক্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের পারমিট দেওয়া হবে, যা নবায়নযোগ্য। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বক্তব্য দেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ইতালি দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

Home R3