রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, “আমরা ট্রাম্পকে বিশ্বাস করতে চাই। আমি আশা করি, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। কারণ, আমার মনে হয়, এসব সিদ্ধান্ত ভুল। এগুলো ইউক্রেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপকার করবে না।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেন ট্রাম্প। নির্বাহী আদেশে তিনি এ সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মধ্যে পুতিনের সঙ্গে রুশ ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কয়েক দিন পর এ সিদ্ধান্ত আসে। চুক্তির আওতায় বিশ্ববাজারে কয়েক লাখ টন রুশ ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ইউক্রেন আসন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। এ ছাড়া জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, স্টারলিংকের মালিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এ সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন সরকারের বার্তা ছিল। তবে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আবার চালু হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। যদিও সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংকের সংস্করণ স্টারশিল্ড ব্যবহারে বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
ট্রাম্প ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক সরাসরি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে জেলেনস্কি বলেন, তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাঁর ধারণা, দুজনই এতে জড়িত ছিলেন। ট্রাম্প বিধিনিষেধ তুলে নিলে স্টারলিংক আগের মতোই তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতা করা বেশি কঠিন। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি সব সময় অত্যন্ত সৎ ছিলেন।