৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলায় নেতানিয়াহুর নিন্দা; ‘কৌশলগত চাল’ দেখছেন বিশ্লেষকেরা

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি হামলায় নেতানিয়াহুর নিন্দা;  ‘কৌশলগত চাল’ দেখছেন বিশ্লেষকেরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে দেওয়া নেতানিয়াহুর এই বিবৃতিকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক চাল’ ও আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি পশ্চিম তীরের একাধিক ফিলিস্তিনি গ্রামে ব্যাপক হামলা চালায় সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বহু ফিলিস্তিনিকে আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই বর্বরোচিত হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি আক্রান্তদের সহায়তায় আসা অ্যাম্বুলেন্স এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

ঘটনার তীব্র আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার পর এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই হামলাকে ‘কয়েকজন বিশৃঙ্খলাকারীর কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেন। তবে মুখে শাস্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার বা কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সমাজ এবং সরকারের অবৈধ ভূমি দখলের বাস্তবতাকে আড়াল করতেই নেতানিয়াহু নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বড় ধরনের গণবিক্ষোভ বা সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উদ্বেগ প্রশমনেই এই সাময়িক নিন্দা জানানো হয়েছে।

বাস্তবে নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিপুল অর্থায়নের ফলে ১৯৯৩ সালে যেখানে পশ্চিম তীরে আড়াই লাখের মতো ইসরায়েলি ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় সাত লাখে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন নতুন বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো কেবল মৌখিক উদ্বেগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় এবং কোনো বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় দখলদারিত্ব ও সহিংসতা আরও বেপরোয়া রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Home R3