২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অনশন ভাঙতে ৩ শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিতসহ তিনটি শর্ত পূরণ করা হলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনে থাকা ওয়াংচুক দিল্লির সাফদারজং হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা এক চিঠিতে এ ঘোষণা দেন।

চিঠিতে ওয়াংচুক দাবি করেন, তাকে ‘অবৈধভাবে আটক’ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনশন ভাঙার জন্য ওয়াংচুকের প্রথম শর্ত হলো, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে।

দ্বিতীয় শর্তে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তৃতীয় শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক জানান, শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি যদি পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিতে না পারেন, তাহলে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে আগের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিতে হবে।

লাদাখের বিভিন্ন দাবি ও ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সোনম ওয়াংচুক। গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। ওই দিন থেকেই তিনি অনশন শুরু করেন।

গত ১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সাফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর আগের দিন চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন উল্লেখ করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

এরপর দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে আদালত এ বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আদালত জানায়, ওয়াংচুক নিজে হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি না হওয়ায় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সরকার তাকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা বলেন, চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতেই ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাই জোরপ্রয়োগ বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

ওয়াংচুকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিবেক টাংখা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দ্বৈত বেঞ্চে আপিল করে জরুরি শুনানির আবেদন করা হতে পারে।

Home R3