ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। খবর প্রেস টিভির।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতা শহিদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরব বিশ্বের ভাইদের পাশাপাশি ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই ঐতিহাসিক স্মরণসভা পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে আগত বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমাম আলী রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং চীনের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি।
এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, ওমান, মিশর, ভারত, আফগানিস্তান, লেবানন, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনসহ আরও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির দাবি, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করার জন্য বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে সেই চাপ উপেক্ষা করেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার জানাজা ও দাফন স্থগিত রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।