১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাইব্যুনালে হাসিমুখে এলেও ক্রোধ নিয়ে বেরোলেন ইনু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। পাশাপাশি দুটি অভিযোগে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার আগে বেলা ১টা ৪৪ মিনিটে ইনুকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তিনি হাসিমুখে এজলাসে প্রবেশ করেন এবং আইনজীবীদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তবে রায় ঘোষণার পর এজলাস থেকে নামার সময় তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

পুলিশ সদস্যরা তাকে আদালত থেকে নামিয়ে নেওয়ার সময় ইনু বলেন, “এটি প্রহসনের বিচার, আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা তাকে সাজা দিয়েছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কিছুটা ধাক্কাধাক্কিও হয়।

এর আগে আদালতে তোলার সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইনু। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, “হাত ধরবেন না, ভদ্রতা শিখুন।”

মামলায় আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, তার নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্টতায় কুষ্টিয়ায় গুলিবর্ষণে ছয়জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।

২০২৫ সালের মার্চে মামলার তদন্ত শুরু হয়ে একই বছরের সেপ্টেম্বরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Home R3