১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বাজেটটি অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট কার্যকর হবে।

বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতির ৪৬ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ এবং বাকি ৫৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎস—বিশেষ করে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বাজেট পাসের আগে সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ অর্থবিল অনুমোদন করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কর ও শুল্কসংক্রান্ত সব প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

এ দিন নির্দিষ্টকরণ আইন-২০২৬ পাসের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্যরা ১ হাজার ৩৪৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব জমা দেন। কিছু প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সেগুলো নামঞ্জুর করা হয়। পরে সময় সাশ্রয়ের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান অবশিষ্ট ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করলে দ্রুত মঞ্জুরি দাবিগুলো পাস হয়।

নির্দিষ্টকরণ বিল অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য রাষ্ট্রপতিকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংসদে কণ্ঠভোটে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা অনুমোদিত হয় এবং অবশিষ্ট ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায় হিসেবে রাখা হয়েছে।

গত অর্থবছরের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত (এনটিআর) খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে অর্থ বিভাগ সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ পেয়েছে ৬৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ।

এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩২ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বাজেটের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নতুন অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে।

Home R3