দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আইনি বাধা উপেক্ষা করে তিনি চলতি বছরেই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি দাবি করেন, তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই রাজনীতি করেন।
অতীতের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুভয় তাকে থামাতে পারবে না এবং আগের মতো এবারও জনগণের পাশে দাঁড়াবেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহাসিক ও জনভিত্তিক দল, যা কোনো নিষেধাজ্ঞায় থেমে থাকবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, তবে জনগণের সমর্থন এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে রয়েছে।
দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান জনগণের শক্তির ওপর নির্ভরশীল, কোনো সরকারের দয়ার ওপর নয়।
শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ করে দেন।
ভারতে অবস্থান করলেও তার মন বাংলাদেশেই রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন এবং জনগণই একদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।