অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতার ধারাবাহিকতায় এবার একটি ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে রামাল্লার পূর্বে অবস্থিত ঐতিহাসিক তাইবেহ গ্রামে কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি গ্রামটির কাছে একটি নতুন অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনের পর থেকেই তাইবেহ বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
এর আগে গত বছর উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামের ঐতিহাসিক ‘চার্চ অব সেন্ট জর্জ’ এবং সংলগ্ন কবরস্থানে অগ্নিসংযোগ করেছিল। ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা তৈরি হলেও হামলার ঘটনা থামেনি।
প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো তাইবেহ গ্রামটির ইতিহাস কনানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৭ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানে প্রধানত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী প্রায় ১,৩৪০ জন মানুষের বসবাস। উর্বর চারণভূমির জন্য পরিচিত এই এলাকার বাসিন্দারা মূলত পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের দাবি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় বসতি স্থাপনকারীরা ক্রমাগত তাদের জমি দখল করছে, ফলে জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এই সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এসব হামলায় শুধু প্রশ্রয়ই দিচ্ছে না, বরং হামলাকারীদের সুরক্ষাও দিচ্ছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরাইল সরকারের আর্থিক সহায়তা, লজিস্টিক সহযোগিতা এবং সামরিক সুরক্ষার কারণেই এই সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চলতি বছরেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং অবৈধ বসতিগুলো অপসারণে ইসরাইলের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করা জরুরি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।