২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শান্তির একমাত্র পথ ইসলাম

আবু নাঈম মু শহীদুল্লাহ্


মানুষ স্বভাবতই শান্তির সন্ধানী। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মানুষ মনের গভীরে একটিই প্রশ্ন বহন করে চলে কোথায় পাবো প্রকৃত শান্তি?
কেউ খোঁজেন অর্থ-বিত্তে, কেউ খ্যাতিতে, কেউবা সম্পর্কের উষ্ণতায়। কিন্তু দিন শেষে হৃদয়ের সেই অতৃপ্তি যেন রয়েই যায়। এই চিরন্তন অস্থিরতার মাঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানবজাতিকে দিয়েছেন এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যার নাম ইসলাম, যার অর্থ আত্মসমর্পণ এবং যার মূলে রয়েছে শান্তি।

আজকের এই লেখাটি কোনো বিতর্কের আসর নয়, কোনো ধর্মের সমালোচনার মঞ্চও নয়। এটি কেবলমাত্র সেই বিশ্বাসী মুসলিম ভাই ও বোনদের জন্য, যারা ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেও শান্তির খোঁজে দিকবিদিক ছুটে চলেছেন। যারা নিজের ধর্মকে পরিপূর্ণভাবে না জানার কারণে অন্যদের খণ্ডিত কথা ও কাজে মুগ্ধ হয়ে পড়েন, বাইরের চাকচিক্যে আকৃষ্ট হন, অথচ তাদের নিজেদের কাছেই রয়েছে অফুরন্ত এক আলোর ভাণ্ডার।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন
জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা আর-রা’দ, আয়াত: ২৮)
এই একটিমাত্র আয়াতেই যেন সমগ্র মানবজাতির শান্তির রহস্য লুকিয়ে আছে। তবুও আমরা অনেকে এই সহজ সত্যটি উপেক্ষা করে জীবনের জটিল গলিপথে হাতড়ে বেড়াই।

এই প্রবন্ধে আমি কোনো নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করতে আসিনি। আমার একমাত্র প্রচেষ্টা হলো — আমাদের মহান স্রষ্টা যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) যা দেখিয়ে গেছেন, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা।

ধর্মীয় বিশ্বাস
পৃথিরীতে বসবাসরত মানুষের মধ্যে ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে কিছু ভিন্ন মত রয়েছে। কিছু আছে কোন ধর্মই মানে না, আবার কিছু আছে সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ সাঃ কে মানেন না তাদের পূর্ব ধর্মের আংশিক মানেন। তবে একথা সবাই মনে করে যে ধর্ম মানুষের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আত্মিক উন্নতির মূল ভিত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল হতে শেখায়। এবং ধর্ম মানুষের ভেতরে সততা, ধৈর্য, সহানুভূতি ও ন্যায়বোধ সৃষ্টি করে। জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে,অন্যের অধিকার রক্ষা করতে শেখায়,ধর্ম মানুষকে ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতা শেখায়। এর ফলে ব্যক্তি নিজেকে সংযত রাখে ও অন্যদের কল্যাণেও কাজ করে। মানুষকে আলোকিত করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজকে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়।

সামাজিক অবক্ষয়, নৈতিক বিপর্যয় এবং মানুষের আধ্যাত্মিক মুক্তির জন্য যুগে যুগে বহু সতর্ককারী পৃথিবীতে এসেছিলেন। যাদেরকে আমরা নবী বা রাসুল বলি। আল্লাহ তাআলা বলেন : এমন কোনো উম্মত নেই যার কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি। (সূরা ফাতির, ৩৫:২৪)

সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা:) যে সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছিলেন তার নাম আল কুরআন। এই কিতাবের পরে আল্লাহর পক্ষ থেকে আর কোনো কিতাব বা সতর্কবার্তা আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন : মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী। (সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৪০)
আর এই কুরআনকে আল্লাহ নিজেই সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক। (সূরা আল-হিজর, ১৫:৯)

পরিপূর্ণ দ্বীনের অনুসারীরা পূর্বের সকল নবীদেরকে স্বীকার করেন, এটা ঈমানের অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন : রাসুল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনরাও। তারা সকলেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান রাখে। আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। (সূরা আল-বাকারা, ২:২৮৫)

সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাঃ -এর পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে ধর্মীয় কিতাবগুলোতে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ের ধর্মীয় বিশ্বাসীদের জন্য তা স্বীকার করা ঈমানের অংশ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :- যারা সেই রাসুলের অনুসরণ করে — যিনি উম্মি নবী — যাঁর বিবরণ তারা তাদের কাছে থাকা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:১৫৭)
আরো বলেন: স্মরণ করুন, যখন মারইয়ামের পুত্র ঈসা বললেন — হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল… এবং আমার পরে যে রাসুল আসবেন তাঁর সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম আহমাদ। (সূরা আস-সাফ, ৬১:৬)

পূর্ববর্তী নবীদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে ধাপে ধাপে পথনির্দেশনা দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আগমনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বশেষ রাসুল। বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ দেখা যেতে পারে।

ধরা যাক, একটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন মডেল বা জেনারেশন বাজারে আনে। প্রতিটি নতুন সংস্করণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়।

যেমন: ডিজাইনে পরিবর্তন: নতুন হেডলাইট, গ্রিল, বাম্পার, টেইললাইট, বডি ডিজাইন।
অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন: আধুনিক ড্যাশবোর্ড, বড় টাচস্ক্রিন, উন্নত মানের ম্যাটেরিয়াল।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: টার্বোচার্জড ছোট ইঞ্জিন, হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক প্রযুক্তি।
প্রযুক্তি ও ইনফোটেইনমেন্ট: ডিজিটাল স্পিডোমিটার, ভয়েস কমান্ড, ওয়্যারলেস চার্জিং।
নিরাপত্তা ও স্মার্ট ফিচার: বেশি এয়ারব্যাগ, সফটওয়্যারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি পরিচালনা। ইত্যাদি ইত্যাদি।
একই কোম্পানি নতুন মডেল বাজারে আনার পর পুরোনো গাড়িগুলোকে সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ করে না। ফলে সব ধরনের গাড়িই বাজারে থাকে, এবং মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা ব্যবহার করে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি কোনো গাড়ি নষ্ট হয়, তখন সচেতন কেউই এক মডেলের গাড়িতে অন্য মডেলের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে চান না। কারণ এতে ঝুঁকি থাকে এবং গাড়ির সঠিক কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।

এবার যদি কল্পনা করি, কোম্পানি নতুন মডেল আনার পর আগের সব মডেল ও তাদের যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণভাবে বাজার থেকে তুলে নেয়, তাহলে পুরোনো গাড়িগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে। তখন নতুন মডেলই হবে একমাত্র কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম।

ঠিক তেমনি, আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ রাসুল হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে প্রেরণ করার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সব নবীর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনাকে পূর্ণতা দিয়েছেন। তাই যারা দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তি কামনা করেন, তাদের জন্য সর্বশেষ রাসুলের প্রতি ঈমান আনা এবং সর্বশেষ হেদায়েতগ্রন্থ আল-কুরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করা অপরিহার্য।

আল্লাহ বলেন : আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি (কাজেই তোমাদের ওপর হালাল ও হারামের যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা মেনে চলো। ) তবে যদি কোন ব্যক্তি ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে ঐগুলোর মধ্য থেকে কোন একটি জিনিস খেয়ে নেয় গুনাহের প্রতি কোন আকর্ষণ ছাড়াই, তাহলে নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী। (সুরা মায়েদা ৩নং আয়াত)

উপরে আমি যে গাড়ির উদহারন দিয়েছি সে গাড়ি কোম্পানির আপডেট গাড়িটি যেমন তার আপডেট নিয়ম ও ফরমুলা অনুযায়ী না মেন্টেইন করলে বিপদ হতে পারে তেমনি আল্লাহ দেওয়া আপডেট কিতাব না মেনে জীবন পরিচালনা করলে মানুষের জীবনেও বিপদ অভসম্ভাবী। সে জন্য পরিপূর্ণ দ্বীন আল ইসলামে পুরোপুরি প্রবেশ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন – আল্লাহ বলেছেন – হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সুরা
সুার আল-বাকারা ২০৮

অশান্ত সমাজে শান্তির বার্তা
বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৯৩টি দেশের মধ্যে আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েতকেও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে গ্লোবাল পিস ইনডেক্স র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, এসব দেশের মানুষ সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত জীবনযাপন করে। মূলত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যুদ্ধের অনুপস্থিতি এবং অপরাধের নিম্নহার।এই কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতেই দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়।

বাস্তবে দেখা যায়, এসব দেশেও হতাশা ও উদ্বেগের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় মানুষ চরম দুশ্চিন্তায় ভোগে। এছাড়া আদিবাসী ও অভিবাসীদের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান। সব মিলিয়ে, বহুমাত্রিক নানা সমস্যার কারণে মানুষের জীবনে এক ধরনের অস্থিরতা থেকেই যায়। শান্তির সার্টিফিকেট পাওয়া দেশগুলোর অবস্থা এমন হলে বাকী দেশগুলো কেমন হাল তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আসলে পৃথিবীতে এই অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই সময়োপযোগী নানা সমস্যায় মানুষ জর্জরিত হয়েছে। আর সেই সমস্যাগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত মানবজাতিকে পথ দেখাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুগে যুগে রাসুল ও নবীগণ আগমন করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ, ফারাওদের শাসনামলে শত শত বছর দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকা জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত এবং দশটি নির্দেশনা নিয়ে এসে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন করেন। এবং রোমান সম্রাজ্যের অধিনে থাকা ফিলিস্তিনের ইহুদি জনগণ নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকারে পতিত হওয়া এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতারা—ফরিশী ও সাদুকীরা—ধর্মকে কঠোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেললে সাধারণ মানুষ মুক্তির পথ খুঁজতে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। ঠিক সেই সময় হযরত ঈসা (আঃ) ভালোবাসা, ক্ষমা ও মুক্তির বাণী নিয়ে আবির্ভূত হন এবং প্রচলিত ধর্মীয় কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেন।

এভাবেই “আইয়ামে জাহেলিয়া’অজ্ঞতার যুগে,মানবজাতি নৈতিক ও সামাজিক অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সেই সময় সর্বশেষ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমন মানবজাতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যা মানুষকে সত্য, ন্যায় এবং স্থায়ী শান্তির পথে পরিচালিত করে।

মানব জাতির অশান্তির মুল কারণ :
সমাজের ধনী-গরীব, সাধারণ কিংবা প্রভাবশালী—সবার অন্তরে একই প্রশ্ন বারবার জাগে: শান্তি কোথায়? কিসে শান্তি? কেন মানবসমাজ আজ সর্বপ্রকার শান্তি থেকে বঞ্চিত? কেন জাতিতে জাতিতে বিভেদ, দেশে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ? কেন শক্তিশালীদের অত্যাচারের শিকার হয় দুর্বলরা? কেন অনেক ধর্মীয় নেতা তাঁদের ধর্মের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্ষমতাসীনদের আনুগত্যে লিপ্ত? কেন চারদিকে বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায় এবং বৈষম্যের ছড়াছড়ি?

অথচ আমরা সবাই একই পিতা আদম (আ.)-এর সন্তান। তবুও নানাবিধ কারণে আমরা আজ অসংখ্য গোত্রে বিভক্ত; এক গোত্রের সঙ্গে অন্য গোত্রের তীব্র সংঘাত, মানুষের ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত। অগণিত অন্যায় ও অবিচারের ফলে আমাদের শান্তিময় জীবনের পথ আজ সর্বদিক থেকে বিপদসংকুল হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে, আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টির দিকে তাকালে এমন অশান্তির কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। তারকারাজি, বাতাস, পানি—প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই এক নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত, যেখানে বিরাজমান সুশৃঙ্খল প্রশান্তি। কেবল মানুষই যেন সেই শান্তির স্নিগ্ধ ছায়া থেকে বঞ্চিত।

ফলে ‘শান্তি কোথায়?’—এই প্রশ্ন আজ মানবমনে এক জটিল রূপ ধারণ করেছে। এর সমাধান খুঁজতে সমগ্র মানবজাতি আজ উদ্বিগ্ন, অস্থির এবং পথহারা।

এই অশান্তির মূল কারণ হলো—মানুষ তার স্রষ্টার নির্ধারিত বিধান উপেক্ষা করে নিজস্ব মনগড়া নিয়মে জীবন পরিচালনা করছে। প্রকৃত শান্তি লাভ করতে হলে আল্লাহ প্রদত্ত নির্দেশনার অনুসরণ অপরিহার্য। কারণ, একমাত্র তাঁর দেখানো পথেই নিহিত রয়েছে সত্যিকারের প্রশান্তি ও স্থিতি।
মানুষ যখন নিজস্ব চিন্তা, প্রবৃত্তি কিংবা মানবসৃষ্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে শান্তি খোঁজে, তখন তা এক প্রকার ভ্রান্ত প্রত্যাশায় পরিণত হয়। এ যেন তালগাছে আম পাওয়ার আশার মতো—যেখানে ফলাফল কখনোই প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। আপনি যদি তালগাছ রোপণ করেন, তবে সেখান থেকে তালই জন্মাবে; আম পাওয়ার আশা করা নিছক অবাস্তব কল্পনা।

অতএব, প্রকৃত শান্তি অর্জনের জন্য মানুষের উচিত তার স্রষ্টা তার জন্য কী বিধান নির্ধারণ করেছেন তা জানা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। এই পথেই রয়েছে মানবজীবনের সত্যিকার কল্যাণ, প্রশান্তি ও সফলতা।

চলবে…


 লেখক : বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য