৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।

সোমবার (১ জুন) সকালে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর আগে রোববার দূতাবাস তাদের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসীরা জানান, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় গিয়ে তারা মানবপাচারের শিকার হন। সেখানে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও তুলে ধরেন তারা।

অনেকে জানান, পরিবারের জমি-জমা বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে তাদের।

প্রত্যাবাসনের সময় রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। তিনি দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় মানবপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্যদের সচেতন করার অনুরোধ জানান।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশগমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে আরও তিনটি ফ্লাইটে গানফুদা ও তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে মোট ৫১৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাসস

Home R3