আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসামের বাংলাভাষী মুসলিম বা ‘মিয়া’ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও ‘প্রশাসনিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
সম্প্রতি ডিব্রুগড়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে বেছে বেছে মুসলিম নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, রাজ্যে চলমান বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআর) প্রক্রিয়ায় বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছেন। এই জনগোষ্ঠীকে প্রশাসনিক চাপে না রাখলে তারা আসামের জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে।
এমনকি তিনি সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে বলেছেন, মুসলিম অটোচালকদের কম ভাড়া দেওয়া বা প্রয়োজনে তাদের ওপর শারীরিক আক্রমণ করাও এখন ‘অসমীয়া অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। হিমন্তের এই প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক অবস্থানকে মানবাধিকার কর্মীরা ‘বিপজ্জনক রাষ্ট্রীয় উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আসাম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এক জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো একটি আইনি প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরাও মনে করছেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজেই আইন লঙ্ঘনের নির্দেশ দেন, তখন বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব। তারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আসামের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই বয়ান নিছক কোনো নির্বাচনী স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে ‘৪ থেকে ৫ লাখ মিঁয়া ভোট’ ডিলিট করার হুমকি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।