১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতকে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পানিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে শাহবাজ শরিফ বলেন, “পানি পুরো অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনরেখা। অভিন্ন নদীর পানিকে রাজনৈতিক সংঘাতের অস্ত্র বানানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যৌথ জলসীমা নিয়ন্ত্রণকারী চুক্তিগুলো বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, যা ইচ্ছেমতো উপেক্ষা করা যায় না।” সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ না করে তিনি আরও বলেন, পানি নিয়ে যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাকিস্তান নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে।

হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত (পারমানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন) সম্প্রতি রায় দিয়েছে যে, ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর এবং ভারত একতরফাভাবে তা স্থগিত করতে পারে না। পাকিস্তান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানালেও ভারত তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট আদালতকে ‘অবৈধভাবে গঠিত’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এই বিষয়ে সালিশি আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই।

এর আগে চলতি মাসেই শাহবাজ শরিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটা আমাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভারত যদি পানি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।” একই ইস্যুতে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও সিন্ধু নদে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কড়া হুমকি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু অববাহিকার রাভি, বিয়াস ও সুতলেজ নদীর পানি ভারতের এবং সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানির সিংহভাগ পাকিস্তানের ভাগে পড়ে। দশকের পর দশক টিকে থাকা এই চুক্তিটি সম্প্রতি অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে হামলার ঘটনার পর একতরফাভাবে স্থগিত করে ভারত সরকার, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

সূত্র: ডন, রয়টার্স

Home R3