১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘পাকিস্তানের ন্যায্য পানির অংশে হাত দিলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে’

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি-আইডব্লিউটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের ন্যায্য পানির অংশে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘যদি কেউ আমাদের পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।’

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদের পানির ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তার দাবি, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি আটকে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় চুক্তিরই লঙ্ঘন নয়, বরং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

২০২৫ সালে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পানি ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ডনের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসাদিক মালিক দাবি করেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য উৎপাদন, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা পুরো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হানবে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—দেশটির ন্যায্য পানির অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি হবে। তার ভাষায়, ‘আমরা শুধু সতর্কবার্তা দিইনি, প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি—সেটিও প্রমাণ করেছি।’

পাকিস্তানের এই মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বহু নদী অববাহিকায় কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে উজান থেকে ভাটিতে পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখা হয়। সেখানে সিন্ধু নদীর ক্ষেত্রে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকার পরও কীভাবে পানির প্রবাহ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়—সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে।

তার দাবি, ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি এখনো বহাল রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর বাধ্যবাধকতা কার্যকর। তিনি বলেন, এই ইস্যু শুধু ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ভাটির দেশের মানুষের পানির অধিকারের প্রশ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে পাকিস্তান এ বিষয়টি তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।

Home R3