২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ

পর্তুগালের বিচার বিলম্বে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের নিন্দা; ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

পর্তুগালের বিচার বিলম্বে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের নিন্দা; ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

বিচারপূর্ব আটকাদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ঘটনায় ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত পর্তুগালের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আদালত বলেছে, একজন আটক ব্যক্তির আপিলের জবাব দিতে ৮৫ দিন সময় নেওয়া ছিল “অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ”, যা মানবাধিকার সুরক্ষার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত রায়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত পর্তুগাল সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ৩ হাজার ২৫০ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত বলছে, বিচারপূর্ব আটকাদেশের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এই ক্ষেত্রে সেই অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, পর্তুগালের টরেস ভেদ্রাস এলাকার এক বাসিন্দাকে ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তকারী বিচারক তাকে বিচার চলাকালে আটক রাখার নির্দেশ দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ৪ ডিসেম্বর আপিল করেন।

তবে আপিল আদালত তার আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত দিতে সময় নেয় ৮৫ দিন। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের বিচারকদের মতে, মামলাটি আইনগত বা তথ্যগত দিক থেকে জটিল ছিল না, ফলে এত দীর্ঘ সময় নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।

শুনানিতে পর্তুগিজ সরকার এই বিলম্বের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। বিচারকরা বলেন, সরকার আপিল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের পক্ষে পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আটক ব্যক্তি এক বছরেরও বেশি সময় বিচারপূর্ব অবস্থায় কারাগারে ছিলেন এবং ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর মুক্তি পান। পরে একই বছর তিনি লিসবন প্রশাসনিক আদালতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ হাজার ইউরো দাবি করেন।

তবে প্রায় পাঁচ বছর পর, ২০২৩ সালের জুনে লিসবন প্রশাসনিক আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে আবেদন করেন।

রায়ে আদালত আর্থিক ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করলেও মামলার অতিরিক্ত ব্যয় ও খরচ সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় পর্তুগালের বিচারব্যবস্থার ধীরগতির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, বিচারপূর্ব আটক সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত শুনানি ও আপিল নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা না হলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

Home R3