১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘নিন্দা জানানোর সময় শেষ, ইসরাইলকে ফিলিস্তিন ভূমির দখল ছাড়তে হবে’ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর

ইসরাইলকে অবৈধভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মানসুর। তিনি বলেন, “ভূমি দখল যুদ্ধ ডেকে আনে”, যা সব শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে দেয় এবং এ বিষয়ে কোনো দরকষাকষির সুযোগ নেই।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্যে মানসুর অভিযোগ করেন, গাজা উপত্যকায় দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর পরিবর্তে ইসরাইল সেটিকে আরও স্থায়ী করার দিকে এগোচ্ছে। তার দাবি, ইসরাইল ইতোমধ্যে গাজার ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশের বেশি এবং পুরো পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে।

তিনি বলেন, ইসরাইলের এসব পদক্ষেপ শুধু অবৈধই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবং প্রস্তাব ২৮০৩-এরও পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো দখলদারিত্ব বা ভূমি দখল থাকবে না। মানসুরের মতে, এসব পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

ইসরাইলের ই-১ এলাকায় বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি কার্যত সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য “মৃত্যুদণ্ড” এবং আঞ্চলিক শান্তির ন্যূনতম সম্ভাবনাকেও নষ্ট করবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরাইল পবিত্র স্থানগুলোতে বারবার হামলা চালিয়ে ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা ভেঙে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণ বাড়িঘর ধ্বংস, হামলা এবং পূর্বপুরুষের ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের মাধ্যমে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।

ফিলিস্তিনি রাজস্ব কর আটকে রাখার বিষয়ে মানসুর বলেন, এটি শুধু অবৈধই নয়, বরং ফিলিস্তিনের আর্থিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের শামিল। তার ভাষায়, এটি ফিলিস্তিনি সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ, যার রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক প্রভাব রয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ভূমি দখল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত এবং আরও প্রকাশ্যে এগিয়ে চলছে। ইসরাইল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অমান্য করছে এবং আন্তর্জাতিক ঘোষণাগুলোকে উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মানসুর বলেন, “ভূমি দখল একটি যুদ্ধের কাজ। এটি সব শান্তি প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে; এটি নিয়ে দরকষাকষি করা যায় না। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল নিন্দা না জানিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “নিন্দা ও প্রত্যাখ্যানের সময় শেষ।”

তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে এই দখলদারিত্ব চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Home R3