পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদ অভিমুখী লং মার্চ কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্রের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
জামায়াতের মুখপাত্র জানান, দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান লং মার্চ নিয়ে মুলতানে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁকে ফোন করেন। এ সময় তিনি দেশে ফিরে জামায়াতের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনায় বসার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তাঁর দেশে ফেরা পর্যন্ত লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের জন্য ইতোমধ্যে একটি স্বস্তিমূলক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে ফিরে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করে আরও ভালো একটি প্যাকেজ ঘোষণার চেষ্টা করবেন তিনি।
জবাবে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, সরকারের ঘোষিত প্যাকেজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকারের সঙ্গে কোনো সংঘাত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চায় না। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই দলটি আন্দোলনে নেমেছে। সরকারকে জনগণের প্রতিবাদ করার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।
লং মার্চ স্থগিতের বিষয়ে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় শুরার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার থেকে জামায়াতে ইসলামী সরে আসবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে করাচি থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী।
ট্রেনযোগে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি সোমবার গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, ট্রেন চার ঘণ্টা বিলম্বে পৌঁছালেও বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি সরকারের প্রতি পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, সরকার জনগণকে স্বস্তি দিলে তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত জেদের প্রশ্ন নেই।
পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন অনুরোধের পর লং মার্চের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় শুরার পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ, ডন ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন