চীনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় স্বাধীনতা চর্চার ওপর চাপ ও নজরদারি অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে তথাকথিত ‘অবৈধ’ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন নগর ও অঞ্চলে প্রবর্তিত এসব প্রশাসনিক পদক্ষেপে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এমনকি এসব তথ্য সরবরাহ করার বিনিময়ে আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার গবেষক ও আইনজীবীদের মতে, চীনের এই নতুন পদক্ষেপগুলো মূলত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০১৬ সালে শুরু করা ‘চীনা সংস্কৃতির ছাঁচে ধর্মকে রূপান্তর’ নীতিরই চরম ও বিস্তৃত রূপ। এর ফলে খ্রিস্টান, মুসলিম এবং তিব্বতি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজেদের বিশ্বাস পালনে চাপের মুখে পড়েছেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ।
নতুন প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার ফলে এখন কেবল যে স্বাধীন ধর্মীয় চর্চার জন্যই নাগরিকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা নয় বরং যারা ভুক্তভোগীদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন বা তাদের অধিকার রক্ষায় দাঁড়াচ্ছেন, তাদের ওপরও নেমে আসছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
সম্প্রতি চীনের বিশিষ্ট ভূগর্ভস্থ প্রোটেস্ট্যান্ট গোষ্ঠী ‘জিয়ন চার্চ’-এর পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করার অপরাধে আইনজীবী রুথ ওয়াংকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার আইন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিলে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। জিয়ন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা যাজক এজরা জিন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপে মুক্তি পেলেও আটজন সদস্য এখনও দীর্ঘ সময় ধরে আটক রয়েছেন।