কুয়েতে প্রবাসীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দেশটির ব্যাংকগুলো। চাকরির অনিশ্চয়তা, কুয়েতিকরণ নীতি এবং চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনার কারণে ঋণ আবেদনকারীদের চাকরির স্থায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তবে প্রবাসীদের ঋণ প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।
আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতের সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের পুরো মেয়াদে আবেদনকারীর চাকরি বহাল থাকার সম্ভাবনা কতটা, সেটি এখন ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
কুয়েতিকরণ নীতির আওতাভুক্ত সরকারি পদ, উদ্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত চাকরি এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের আওতায় থাকা পেশাগুলোকে বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার আওতায় থাকা কিছু সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমবায় সমিতি এবং পাবলিক বেনিফিট অর্গানাইজেশনের কর্মীরাও রয়েছেন।
অন্যদিকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কর্মরত প্রবাসীদের তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পেশার কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কুয়েতিকরণের ঝুঁকি নেই এমন বিশেষায়িত চিকিৎসকরাও ঋণের ক্ষেত্রে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ঋণ অনুমোদনের সময় আবেদনকারীর চাকরির মেয়াদ, বেতন, অতীতের ক্রেডিট হিস্ট্রি এবং চাকরি শেষে প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি বা অন্যান্য সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত প্রবাসীদের তুলনামূলক কম ঝুঁকির গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তাদের জমা হওয়া চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী এবং তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ঋণের সীমাও কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত ও ব্যাংক নীতিমালা পূরণ সাপেক্ষে একজন যোগ্য কুয়েতি বা প্রবাসী নাগরিক সর্বোচ্চ ৯৫ হাজার কুয়েতি দিনার পর্যন্ত যৌথ ভোক্তা ও আবাসন ঋণ পেতে পারেন। ৯৫ হাজার দিনার ঋণের ক্ষেত্রে আনুমানিক মাসিক বেতন ন্যূনতম ২ হাজার ৭৫০ দিনার প্রয়োজন হতে পারে। এ ঋণের সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি প্রায় ১ হাজার ১০০ দিনার, যা নিট বেতনের ৪০ শতাংশের মধ্যে।
অন্যদিকে ২৫ হাজার দিনার ঋণের জন্য প্রায় ১ হাজার ২২৫ দিনার মাসিক বেতন প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি প্রায় ৪৯০ দিনার হতে পারে।
ব্যাংকগুলো এখন আবেদনকারীর ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, সুনাম এবং নিয়মিত বেতন পরিশোধের রেকর্ডও যাচাই করছে। কুয়েতের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কিংবা ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।
সূত্র: গালফ নিউজ, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব কুয়েত