১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসিফ নজরুলের মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা এখনো বহাল তবিয়তে

নীতির কোনো তোয়াক্কা করেননি। তার যা মন চেয়েছে তা-ই করেছেন। সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে সরকারি আইনজীবীদের বলা হয় পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর। আর উচ্চ আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অতিরিক্ত, ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। আইনে একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ থাকলেও ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা কত হবে তা নির্ধারণ করা নেই।

একইভাবে জেলায় একজন পাবলিক প্রসিকিউটর থাকার কথা বলা হলেও স্পেশাল পিপি, সহকারী পিপি ইত্যাদি পদে কতজন থাকবেন তা নির্ধারণ করা নেই। আর এ সুযোগ নিয়ে আসিফ নজরুল সরকারি আইনজীবী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। তাঁর দেড় বছরের শাসনকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হয়েছে শুধু আসিফ নজরুলের নিজের লাভের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। নতুন আইনমন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আসিফ নজরুল মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা আছেন বহাল তবিয়তে। এঁদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষমতাসীন দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারও বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ, কেউ অযোগ্য বলে আইনজীবীদের কাছে পরিচিত। তার পরও তাঁরা কীভাবে বহাল আছেন তা নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা হচ্ছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, খুব শিগগিরই নতুন করে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয় গত এক মাস প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, এর মধ্যেই সরকার নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বদল করা হয়েছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, নতুন সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করে তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। সেই সঙ্গে ‘গুপ্ত’রা ঢুকে যাবে সরকারের ভিতর।