৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ

১৬ বছর পর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে পর্তুলের ঐতিহাসিক সিলভেস কর্ক জাদুঘর

১৬ বছর পর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে পর্তুলের ঐতিহাসিক সিলভেস কর্ক জাদুঘর

১৬ বছর পর আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে পর্তুগালের আলগার্ভ অঞ্চলের ঐতিহাসিক ফাব্রিকা দো ইংলেসে অবস্থিত সিলভেস কর্ক জাদুঘর।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে গত শনিবার (৪ জুলাই) সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করা হয়।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলগার্ভভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কারভোইরো ব্রাঙ্কো ও অ্যানট্রিক্স। ২০০৯ সালে জাদুঘরটি বন্ধ হওয়ার পর এই প্রথম কেউ এর ভেতর ঘুরে দেখার সুযোগ পেলেন।

অনুষ্ঠানে কারভোইরো ব্রাঙ্কোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক ডে ভ্লিগার বলেন, “আমি একজন অভিবাসী, একজন বিদেশি। কিন্তু তার চেয়েও বড় পরিচয়, আমি এখন আলগার্ভেরই একজন মানুষ। আজ আমরা কর্ক জাদুঘরটি আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছি। এটি আমাদের সবার জন্য গর্বের বিষয়।”

জাদুঘরটির অভ্যন্তরের দৃশ্য

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাদুঘরের পরিচালক এলসা লোপেস, শিল্প ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ জর্জ কুস্তোদিও, সিলভেসের মেয়র লুইসা কনদুতো লুইস, লাগোয়ার মেয়র লুইস এনকারনাসাও, সিসিডিআর আলগার্ভের সভাপতি জোসে আপোলিনারিও এবং পোর্তিমাও জাদুঘরের বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক জোসে গামেইরো।

সিলভেসের মেয়র লুইসা কনদুতো লুইস বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় পর জাদুঘরটি আবার চালু হওয়া শহরের ইতিহাস ও পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফিরে পাওয়ার মতো।

এই জাদুঘরটি একসময় পর্তুগালের অন্যতম বৃহৎ কর্ক প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ফাব্রিকা দো ইংলেস-এর ভেতরে অবস্থিত। ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানাটি দীর্ঘদিন সিলভেসের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। পরে ১৯৯৯ সালে এটিকে কর্ক জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

জাদুঘরটির শিল্প উৎপাদন লাইন ও সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছিল। ২০০১ সালে এটি ইউরোপের সেরা শিল্প জাদুঘর হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ লুইজি মিকেলেত্তি পুরস্কার লাভ করে। একসময় এখানে বছরে এক লাখেরও বেশি দর্শনার্থী আসতেন।

তবে ২০০৯ সালে ফাব্রিকা দো ইংলেস কমপ্লেক্স দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে আর চালু হয়নি।

বর্তমানে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির পুনর্গঠনের কাজ করছে কারভোইরো ব্রাঙ্কো। তাদের লক্ষ্য, শিল্প ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এটিকে আলগার্ভের একটি নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

আগামী ১১ জুলাই (শনিবার) জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমসাময়িক কবিতা ও সংগীতের সমন্বয়ে ‘রেসোনান্সিয়াস’ নামে একটি পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নেবেন ক্রিস্তিনা কালভিনো ও জে এদুয়ার্দো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগে থেকেই জাদুঘরের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। তবে আসনসংখ্যা সীমিত।

সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট

Home R3