শিশুদের প্রযুক্তিজনিত ক্ষতি ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য।
বার্তা সংস্থা *রয়টার্স* জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দুটি বহুল আলোচিত আইনসহ মোট ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। অনুমোদিত এই নতুন আইনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আচরণগত আসক্তি তৈরি করে এমন বিভিন্ন ফিচারের সংস্পর্শে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটযুক্ত খেলনা তৈরি ও বিক্রির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গভর্নর নিউজম বলেন, “আমরা চাই আমাদের শিশুরা এমন এক পৃথিবীতে বড় হোক যেখানে প্রযুক্তি তাদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, তাদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে শোষণ করার জন্য নয়।”
নতুন বিধিমালার আওতায় শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এখন থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে অনৈতিক বা যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখানো যেকোনো এআই-নির্মিত কনটেন্টও সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া আগামী চার বছর এআই চ্যাটবটযুক্ত ‘কম্প্যানিয়ন’ খেলনা উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে যেকোনো চ্যাটবট সিস্টেমে অভিভাবকদের তদারকি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত বিলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘অ্যাডামস ল’। ১৬ বছর বয়সী কিশোর অ্যাডাম রেইনের স্মরণে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যা করা অ্যাডামের পরিবারের অভিযোগ ছিল, ওপেনএআই-এর তৈরি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে টানা কয়েক মাস মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরই সে আত্মঘাতী হয়। প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য স্বীকার করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি চ্যাটে তাদের নিরাপত্তা ফিল্টারগুলো তুলনামূলক ‘কম নির্ভরযোগ্য’ হয়ে পড়েছিল এবং সুরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে তারা কাজ করছে।
আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে আসক্তি তৈরি করে এমন অ্যালগরিদমনির্ভর ফিচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অসীম স্ক্রলিং ফিড এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ভিডিও চালু হওয়া।
গুগল, মেটা ও স্ন্যাপের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়া হলেও শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ইউটাহ, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ওহাইও, আরকানসাস, লুইজিয়ানা ও নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের মতো ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এ ধরনের ঢালাও বিধিনিষেধ তরুণদের অনলাইন গোপনীয়তা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।