হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ন্যাটোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই সামরিক জোট “প্রয়োজনে সম্পূর্ণ অকার্যকর” ছিল।
শুক্রবার বিকেলে আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আপাতত সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যতদিন না ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি শেষ হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, প্রণালিটি এখন চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং দাবি করেন, তেহরান ভবিষ্যতে এটি আর বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তার মতে, ইরান যেসব দেশকে “শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের জাহাজ হরমুজে চলাচলে বাধার মুখে পড়ে।
এদিকে ন্যাটো-এর সদস্য ফ্রান্স সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। শুক্রবার প্যারিস-এ ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকে হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, পরিস্থিতি অনুকূল হলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক মিশন চালু করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প স্টারমারকে “পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধাবাদী মিত্র” বলে কটাক্ষ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।