দক্ষিণ সুদানের যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ২০১৬ সালে দেশ ছাড়েন অ্যালেক্স জেমস গানিয়া। প্রথমে সুদান, পরে মিসরে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে ছয় বছর অপেক্ষা করেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে পুনর্বাসনের আশায়। কিন্তু সেই সুযোগ আর আসেনি।
পরে চিকিৎসা ও কাজের আশায় লিবিয়ায় যান ৩১ বছর বয়সী গানিয়া। দক্ষিণ সুদানের যুদ্ধের সময় আহত হয়ে তার পায়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মিসরে চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে তিনি লিবিয়ায় যান। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। বরং তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইনফোমিগ্রেন্টসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
গানিয়া জানান, তার পায়ে রক্ত জমাট ও হাঁটুর নানা জটিলতা রয়েছে। শীতকালে ব্যথা বেড়ে যায়। তখন হাঁটা ও কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
লিবিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকারও হন তিনি। এক ব্যক্তি তাকে লিবিয়ায় নেওয়ার কথা বলে প্রায় ২ হাজার লিবিয়ান দিনার নেন। টাকা দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
গানিয়া আরও জানান, লিবিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। কাজ করেও অনেকে ঠিকমতো পারিশ্রমিক পান না। তার ক্ষেত্রেও কম টাকা দেওয়া বা মজুরি আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার ভয়ে নিজের অধিকার আদায়ে পুলিশের কাছে যেতে পারেন না। বর্তমানে তিনি লিবিয়ায় আটকে আছেন। দক্ষিণ সুদানে ফিরতেও পারছেন না।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত লিবিয়ায় প্রায় ৯৩ হাজার ৭৪৩ জন সুদানি এবং ২ হাজার ১১০ জন দক্ষিণ সুদানি আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত ছিলেন।
গানিয়ার একটাই চাওয়া। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে আবার হাঁটতে চান তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করার স্বপ্ন দেখেন।
সূত্র : ইনফোমিগ্রেন্টস