উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে সংঘটিত এসব হামলার পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা গত কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টা করলে তারা পাল্টা অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইরান স্বীকার করেছে যে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থার দাবি, বাহরাইনে একটি মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংস করা হয়েছে এবং কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে।
এদিকে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে একটি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরমোজগান, সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।