বাংলাদেশের নাগরিকদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর পাসপোর্ট সেবা এবং ব্যক্তিগত ডেটাবেজ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে না দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির রাজধানী রিয়াদে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি সচেতন মহল’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিটি নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম একটি বিদেশি সংস্থাকে হস্তান্তরের বিষয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিদেশে অবস্থানরত লাখ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। তাঁদের সেবাপ্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন প্রদেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই পুরো কার্যক্রমটি হঠাৎ কোনো ভিনদেশি সংস্থার অধীনে দেওয়া হলে দেশের নাগরিকদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য পাচার হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আজকের যুগে তথ্যপ্রযুক্তিগত যুদ্ধ ও সাইবার নিরাপত্তার বাস্তবতায় নাগরিক ডেটাবেজ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এক ধরনের ‘ডিজিটাল উপনিবেশ’ তৈরির শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো এবং সালাউদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া। এতে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রবাসী সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
প্রবাসীরা দাবি জানান, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে দেশীয় সরকারি ও দক্ষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলে দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ তথ্যের নিরাপত্তা বজায় থাকবে। দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের যেকোনো আত্মঘাতী পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা।