চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন খবর ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভার এক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, স্টারমার নিজের শর্তে এবং উপযুক্ত সময়েই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান। সরকার পরিচালনায় চলমান সংকট ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তিনি ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও সূত্রের দাবি।
বর্তমানে লেবার পার্টির সরকার একাধিক বিতর্ক, প্রশাসনিক চাপ এবং জনঅসন্তোষের মুখে রয়েছে। পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত ইস্যু এবং স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ পরিস্থিতিতে আরও চাপ তৈরি হয়েছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ ও নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা ঘিরে। তিনি প্রকাশ্যে স্টারমারের প্রতি দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জনমত জরিপেও স্টারমারের জনপ্রিয়তায় বড় ধসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইউগভ ইউকের এক জরিপ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ব্রিটিশ নাগরিকই তার নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ ক্ষমতায় ফেরার পথও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকের উত্থান রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : ডেইলি মেইল