৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন, অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

নেপালের রসুয়া জেলার তিমুরে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রত্যন্ত তিমুরে এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ভোতে কোশি নদীর পানি উপচে পড়ায় কাদা ও পাথরের ঢল নেমে রসুয়া জেলার তিমুরেসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বহু বাড়িঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং অনেক মানুষ নিখোঁজ হন।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে তারা দ্রুত হাত ও বেলচা দিয়ে মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় কাদামাটি ও বড় বড় পাথর সরিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন তারা।

উদ্ধারের পর তিমুরেতে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।

শুক্রবার রাতে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে শিশুটিকে আকাশপথে কাঠমান্ডু নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার দুপুরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ধারকর্মীদের সাহসিকতা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে।

তবে আকস্মিক এই দুর্যোগের পর শিশুটির মা-বাবা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয়ের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তার স্বজনদের খুঁজে বের করতে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

Home R3