২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিউইয়র্কে ইতিহাস গড়ে ফিলিস্তিনি হিজাবি নারীর জয়

গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথিত ‘গণহত্যার অর্থায়ন বন্ধ’ এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অ্যাবার কাওয়াস নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন তার এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।

অ্যাবার কাওয়াস নিউইয়র্কেই জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। তার বাবা-মা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তার এই জয় আসে জোহরান মামদানির ধারাবাহিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি জয়ের পর। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে মামদানি এসব নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

কাওয়াসের প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে “Not On Our Dime!” নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়, যার লক্ষ্য নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলকে অর্থ প্রদান বন্ধ করা। উদ্যোগটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় পরোক্ষভাবে ভর্তুকি দিচ্ছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাবিত বিল নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের কথা বলছে। এতে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অননুমোদিত সহায়তা প্রদান থেকে বিরত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতি বছর ইসরাইলি বসতিগুলোতে যাওয়া প্রায় ৬ কোটি ডলারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কোনো ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দিলে তাদের জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই উদ্যোগ ও প্রস্তাবিত আইন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এবং এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি করতে পারে।