ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন অব্যাহত রাখার মধ্যেই এবার মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতারেও সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারকে সরাসরি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত দম্ভভরে এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের সময় তাঁরা কাতারের মাটিতে আক্রমণ চালিয়েছেন এবং সেখানে বোমা হামলা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে তীব্র চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু মূলত কট্টর ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহার একটি আবাসিক এলাকায় লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। মার্কিন সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চলার সময় চালানো ওই হামলায় হামাসের পাঁচ প্রতিনিধি এবং কাতারের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। একটি সার্বভৌম দেশে এমন হামলার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এ ঘটনাকে কাতারের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ফোনকলের মাধ্যমে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
একই সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারি অর্থ সহায়তা ঘিরে ওঠা অভ্যন্তরীণ সমালোচনারও জবাব দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। ইসরাইলের বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল: নেতানিয়াহুর অনুমোদনে কাতার থেকে যে তহবিল গাজায় প্রবেশ করেছিল, তা ব্যবহার করেই ২০২৩ সালের অক্টোবরের বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল হামাস। এর জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের পরামর্শেই কেবল মানবিক ত্রাণ হিসেবে ওই অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা উপত্যকাটিতে ঢোকা মোট সহায়তার মাত্র দুই শতাংশ।
তবে কাতার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দোহার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের সব আর্থিক সাহায্য যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের পূর্ণ নজরদারিতে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শুধু গাজার সাধারণ বেসামরিক মানুষের মানবিক সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছিল।