বেলজিয়াম বর্তমানে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী দাবানলের কবলে পড়েছে। গত ১৪ আগস্ট, শুক্রবার দেশটির পূর্বাঞ্চলে শুরু হওয়া এই দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং মাত্র তিন দিনেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির গাছপালা ও বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বেলজিয়ামের ইতিহাসে ২০১১ সালের দাবানলকে এতদিন সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান দাবানল ইতোমধ্যেই সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০১১ সালের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ জমির গাছপালা ধ্বংস করেছে।
শুক্রবার আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পরপরই বেলজিয়াম সরকার জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সব কর্মীকে আগুন নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরবর্তীতে বেলজিয়ামের সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষও আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়।
তবে দীর্ঘ চার দিনের আপ্রাণ চেষ্টার পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। রোববার বেলজিয়ামের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়ার প্রাদেশিক প্রশাসনের মুখপাত্র স্টেফানি এরনক্স জানিয়েছেন, শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে আগুন ক্রমশ জার্মানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই অভূতপূর্ব বিপর্যয় সম্পর্কে বেলজিয়ামের ফায়ার ব্রিগেডের ক্যাপ্টেন করিম বৌর্ফা রয়টার্সকে বলেন, “আমি কখনও কল্পনাও করতে পারিনি যে বেলজিয়ামে কখনও এত বড় মাত্রায় দাবানল হতে পারে। এখন এই বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের হতে হচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও এমন বিপর্যয় ঘন ঘন আসবে। এ কারণে আমাদের উচিত হবে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা।”
বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শুষ্ক আবহাওয়া এবং তীব্র বাতাস এই দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আগুন নেভানোর কাজ অব্যাহত থাকলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কত সময় লাগবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।