অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে বর্তমান সরকারকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীর মহীপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “বর্তমান সরকার বারবার জনদাবি উপেক্ষা করে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। দেশবাসী আজ ভালো নেই; গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। ছয় মাস পার হলেও বিগত গণহত্যার একটি বিচারের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রথম দিন থেকেই এই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো দেশ ফেলে বিদেশে পালিয়ে গেলেও জামায়াত কখনো দেশ ছেড়ে যায়নি। বাংলাদেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো ঠিকানা নেই। অতীতের শত জুলুম-নির্যাতন ও অত্যাচারের স্ট্রিমরোলার সত্ত্বেও আমরা কোনো দাদার বাড়ি বা পিসির বাড়ি চলে যাইনি।”
নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের চোখ রাঙানো হচ্ছে, তবে আমরা কাউকে ভয় করি না। জনগণের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া হবে না। চূড়ান্ত ডাক এলে আবারও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নামার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আঘাত আসলে এবার পাল্টা আঘাত করতে হবে। ঢাকার আসন্ন মহাসমাবেশ থেকে রাজনৈতিক চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ঘোষণার আগেই সরকার বিরোধীদলের ছয় দফা দাবি মেনে নিলে কঠোর কর্মসূচি থেকে সরে আসা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।