দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। তবে এর মধ্যেও স্বস্তির খবর হলো, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ৮টিতে কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এসব টুথপেস্টকে উপাদানগত দিক থেকে নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।
এক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে এসডো সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি পরিচিত ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২৬টি নমুনায় বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ৮টি টুথপেস্টে কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।
মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত ৮টি টুথপেস্ট :
জেনফ্রেশ : সম্পূর্ণ দেশীয় এই ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি – ম্যাঙ্গো : শিশুদের জন্য তৈরি দেশীয় এই টুথপেস্টটিও নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ক্লোজ-আপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি : দেশে উৎপাদিত এই ভ্যারিয়েন্টে প্লাস্টিক কণা অনুপস্থিত।
প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার : ভারতে উৎপাদিত মাড়ির সুরক্ষায় ব্যবহৃত এই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল : স্পর্শকাতর দাঁতের জন্য তৈরি এই জেলভিত্তিক টুথপেস্টটিও প্লাস্টিকমুক্ত।
কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ : ভারতে উৎপাদিত এই ভ্যারিয়েন্ট নিরাপদ তালিকায় রয়েছে।
কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট : প্রাকৃতিক লবণসমৃদ্ধ এই টুথপেস্টেও কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।
কোডোমো অরেঞ্জ : থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শিশুদের এই টুথপেস্টটিও মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার সময় অজান্তেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণা পাকস্থলীর সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই টুথপেস্ট কেনার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া এবং পরীক্ষিত ও নিরাপদ পণ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।