২০১৯ সালে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালাতে গিয়ে ভূপাতিত ও আটক হওয়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহুল আলোচিত পাইলট অভিনন্দন বর্তমান সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। যুদ্ধবিমানের ককপিট ছেড়ে এবার তিনি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ‘ফ্লাই৯১’-এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিমানবাহিনীতে দীর্ঘ ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর আগাম অবসর নেন সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও ‘বীর চক্র’ পদকপ্রাপ্ত অভিনন্দন বর্তমান। গত আগস্টে তিনি গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইনস ফ্লাই৯১-এ পাইলট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন।
এ বিষয়ে অভিনন্দন বর্তমানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এয়ারলাইনসটির মুখপাত্র কর্মীদের গোপনীয়তার স্বার্থে এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে কার্যক্রম শুরু করা ফ্লাই৯১ বর্তমানে ছয়টি এটিআর ৭২-৬০০ উড়োজাহাজ দিয়ে গোয়া ও হায়দরাবাদ ঘাঁটি থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। এর জেরে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বিমানবাহিনী পাল্টা জবাব দিলে দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধ শুরু হয়।
সে সময় অভিনন্দন বর্তমানের মিগ-২১ যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে আজাদ কাশ্মীরে ভূপাতিত হয় এবং তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন। ওই ঘটনার পর পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ প্রায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। তিন দিন আটক থাকার পর ২০১৯ সালের ১ মার্চ ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে অভিনন্দনকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে পাকিস্তান। পরবর্তীতে ভারত সরকার তাকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন সামরিক পদক ‘বীর চক্র’-এ ভূষিত করে।
সূত্র: এনডিটিভি ও পিটিআই