দুর্নীতি সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এর দায় প্রায়ই রাজনীতিবিদদের ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকার কারণেই এ দায় তাদের কাঁধে এসে পড়ে।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অতিরিক্ত মঞ্জুরির দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুদককে পুনর্গঠন ও আরও কার্যকর করতে সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত অধ্যাদেশ কার্যকর না হলেও পূর্বের আইন পুনরুজ্জীবিত করে সেই অনুযায়ী কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা সময়মতো পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি মনোনয়নের পর সার্চ কমিটি গঠনের পথ সুগম হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ও শক্তিশালী দুদক গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে। দুদক আইন সংসদে পাস হলে কমিশনের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দুদকের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানান। একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদও দুদকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিয়োগ ও তদন্ত কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন।
সংসদে বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা নেই—সব ধরনের ধর্ষণই সমান গুরুতর অপরাধ এবং এর বিচারে কোনো বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ছাড়া পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
দিনের শেষে জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। সংশোধিত বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ও বাজেট ঘাটতির নতুন হিসাব তুলে ধরা হয়।