২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাইব্যুনাল থেকে সরানো হল তাজুল ইসলামকে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই পদে তিনি অ্যাটর্নি-জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ১৯৯৩ সালের ২৭ মে হাই কোর্ট বিভাগে এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

অন্যদিকে তাজুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এর অংশ হিসেবে প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব পান তাজুল ইসলাম।

সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এই চার প্রসিকিউটর হলেন- মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, সেখানে এখন সেই সরকারের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিচার চলছে।

ইতিমধ্যে এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলারও রয়ে এসেছে পুনর্গিঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে।