২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমাতে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুরু হওয়া এই সফরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা রয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময়ে তেহরান সফরে এলেন, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে দেখছে দোহার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে দৈনিক তেল পরিবহন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল থেকে কমে মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইরানের প্রতিবেশী হিসেবে কাতার দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে গত জুনে একটি যুদ্ধবিরতির কাঠামো তৈরিতেও সক্রিয় ছিল দোহা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, শেখ মোহাম্মদের এ সফরে মধ্যস্থতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদিও তেহরান সফর করেন। বিশ্লেষকদের মতে, কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কাতারের এ মধ্যস্থতা সফল হলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরুর পথ সুগম হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা।

Home R3