১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিতর্কিত প্রস্তাব, গণভোটে সুইস নাগরিকরা

সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা আজ রোববার (১৪ জুন) দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়ে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অভিবাসন সীমিত করার প্রস্তাব এবং অন্যটি সামরিক সেবার বিকল্প হিসেবে বেসামরিক সেবায় যোগদানের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থার আওতায় অনুষ্ঠিত এই দুটি ভোটেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, কোনো পক্ষই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই।

রোববার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য ভোটকেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। তবে দেশটিতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রচলন থাকায় অধিকাংশ ভোটার আগেই তাদের ভোট প্রদান করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বিকেলের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল জানা যাবে।

গণভোটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কট্টর ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) প্রস্তাবিত ‘এক কোটি জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ড নয়’ উদ্যোগ। এ প্রস্তাব ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৯১ লাখ। প্রস্তাবটি পাস হলে ২০৫০ সালের আগে দেশের জনসংখ্যা এক কোটির বেশি হতে দেওয়া যাবে না এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুইজারল্যান্ডে মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে অভিবাসনের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এসভিপির দাবি, অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ এবং যানজটের মতো সমস্যা বেড়ে চলেছে।

এসভিপির সংসদ সদস্য ইভান পাহুদ এএফপিকে বলেন, “সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ, যার আয়তন বাড়ানো সম্ভব নয়। আমরা পুরো ইউরোপকে এখানে স্বাগত জানাতে চাই না।”

তবে সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ অনুমোদিত হলে তা সুইস অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী বিট ইয়ান্স বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রিবিউন দ্য জেনেভ পত্রিকাকে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোট। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, গণভোটের ফলাফল দেশটির জন্য ‘ব্রেক্সিট’-সদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

ইতোমধ্যে সুইস সরকার, পার্লামেন্ট এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাত এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও দেখা গেছে, বিরোধী পক্ষ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হতে হলে শুধু জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেই হবে না; দেশের ২৬টি ক্যান্টনের মধ্যে অন্তত অর্ধেকের বেশি ক্যান্টনের সমর্থনও অর্জন করতে হবে।

Home R3