নোবেল পুরস্কার না পেয়ে নরওয়েকে ট্রাম্পের হুমকি

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে নরওয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এ ঘটনা নরওয়ের জন্য ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’। একই সঙ্গে পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ভুলে যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন একজন উদারপন্থী ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে, যিনি জাতিসংঘে কাজ করেন এবং যাকে খুব কম মানুষ চেনেন। পিল্লাইকে অভিনন্দন জানালেও তার নাম আগে কখনো শোনেননি বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাভি পিল্লাই। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি। পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন তিনি। গাজা নিয়ে ওই কমিশনের প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করেছে ইসরায়েল।

সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি যেসব যুদ্ধ বন্ধ করেছেন, সেগুলোতে জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা ছিল না। যুদ্ধের সমাধান করতে গিয়ে তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও জানান। তার ভাষ্য, সংস্থাটি তাকে কোনো সহায়তা করেনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নেতৃত্বে দেশটিরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।

নোবেল পুরস্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, এ সিদ্ধান্ত নরওয়ে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তার অভিযোগ, কয়েকজন উগ্র মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং এসব সংঘাতের যেকোনো একটির সমাধানের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, কসোভো ও সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও রুয়ান্ডা, ইসরায়েল ও হামাস এবং ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংসের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা থেকে বিরত রেখেছেন। তার দাবি, ইরানকে থামানো না গেলে ইউরোপসহ আরও বিস্তৃত অঞ্চল হুমকির মুখে পড়তে পারত।

গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, জীবিত ও মৃত মিলিয়ে শেষ ২৮ জনসহ সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ জন্য হামাসের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিহত জিম্মিদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকে জীবিত জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্প নিজের শান্তি প্রতিষ্ঠার রেকর্ডের প্রশংসা করে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, তার মতো শান্তি প্রতিষ্ঠার রেকর্ড আর কারও নেই এবং নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় অসততা রয়েছে।

Home R3