নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা ‘সুবিধাজনক নয়’: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো সুবিধাজনক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিও স্টেশন আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মতে, এই মুহূর্তে ইরানে হামলা চালানো আমাদের জন্য সুবিধাজনক নয়।”

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য এলো।

এর আগে মঙ্গলবার ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় ওই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে নতুন করে হামলা শুরুর বিষয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো অনিশ্চিত।

একই সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। আগামী নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হলে কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বেন গভির ওই পদে আগ্রহী উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি জানি, তিনি এই পদ চান। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয়।” প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁর লিকুদ পার্টির হাতেই থাকবে বলেও জানান তিনি।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

Home R3