আবারও জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে কানাডা

অভিবাসন কমিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এবার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে দেশটির জনসংখ্যা আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ানো শুরু করা হবে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্নি এ কথা বলেন। তবে নতুন করে কতসংখ্যক অভিবাসী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য জানাননি। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে কানাডার ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন। এ সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ১৯১৫ থেকে ১৯১৬ সালের পর জুলাই থেকে জুলাই হিসাবে কানাডার সর্বনিম্ন বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার।

একই সময়ে দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৫ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমাতে গত কয়েক বছর ধরে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানো এবং স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার হার মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা সরকার। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

অস্থায়ী বাসিন্দাদের নতুন আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ কমানোই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এখন ইঙ্গিত মিলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আবার বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। আগামী ১ নভেম্বর প্রকাশিতব্য ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কানাডার অর্থনীতিতে শ্রমশক্তির চাহিদা, জনসংখ্যার বয়স কাঠামো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন নীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগামী পরিকল্পনায় সরকার অভিবাসনের মাত্রা কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

Home R3