কানাডায় নতুন আইন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

বিদেশি শক্তির প্রভাব ও গোপন লবিং ঠেকাতে কানাডায় নতুন আইন চালু হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের হিসাবে, দেশটিতে সম্ভাব্য বিদেশি এজেন্ট রয়েছেন ২ হাজার ৪২২ জন। অথচ নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আবেদন করেছেন মাত্র ৩০ জন। তাদের মধ্যে পাবলিক ডাটাবেজে নাম প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র দুজনের।

বিদেশি শক্তির গোপন তৎপরতা ও লবিংয়ে স্বচ্ছতা আনতে কানাডা সরকার ‘ফরেন ইনফ্লুয়েন্স ট্রান্সপারেন্সি রেজিস্ট্রি’ চালু করেছে। তবে নিবন্ধনের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় অটোয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পাবলিক সেফটি কানাডার হিসাব অনুযায়ী, কানাডার রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অন্তত ২ হাজার ৪২২ জন বিদেশি এজেন্ট সক্রিয় রয়েছেন। নতুন আইন অনুযায়ী এসব ব্যক্তির নিবন্ধনের শেষ সময়সীমা ছিল ৩ অক্টোবর। কিন্তু সময়সীমা পার হওয়ার পর মাত্র ৩০ জন নিবন্ধনের আবেদন করেছেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের নাম পাবলিক ডাটাবেজে প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিদেশি এজেন্টের সংখ্যা এবং নিবন্ধনের সংখ্যার এই বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

কনজারভেটিভ পার্টির এমপি মাইকেল কুপার সংসদীয় কমিটিতে নিবন্ধনের এই পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ এবং চরম ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, সম্ভাব্য বিদেশি এজেন্টের সংখ্যা এত বেশি হলেও নিবন্ধনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে বিদেশি শক্তির হয়ে কারা কানাডার রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করছেন, তা এখনো সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

এদিকে ২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার ব্যয়ে তৈরি নিবন্ধন ব্যবস্থার আইটি সিস্টেম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিস্টেমটিতে একাধিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত দুবার সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে।

ফরেন ইনফ্লুয়েন্স ট্রান্সপারেন্সি কমিশনার অ্যান্টন বোগম্যান স্বীকার করেছেন, গত আগস্টে আইনটি চালুর সময় সিস্টেমটি একটি ‘ন্যূনতম কার্যকর পণ্য’ হিসেবে চালু করা হয়েছিল।

তবে বোগম্যান জানিয়েছেন, আইনটি নতুন হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং স্বেচ্ছায় নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি করার ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিদেশি প্রভাব ও লবিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। তবে নিবন্ধনের সংখ্যা কম থাকা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগের কারণে আইনটির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে কানাডায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Home R3