বা দিক থেকে : পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগত এবং দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের অংশবিশেষ
দিল্লিতে এক নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগতকে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আরও ১১ কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগের প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে ওই নারী সাংবাদিককে দুইবার আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে। তবে দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এই পদোন্নতি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০১৮ ব্যাচের ড্যানিপস কর্মকর্তা ভগত এর আগে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা তিন নারী সাংবাদিকের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
রোববার দিল্লি পুলিশ জানায়, ‘ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে এফআইআর দায়েরের দাবিতে সাংবাদিকরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তবে এখনো কোনো এফআইআর দায়ের করেনি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করার সময় অভিযোগকারী নারী সাংবাদিককে দুইবার আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এক নারী সাংবাদিককে অনুচিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছে। তারা তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে।
নারী সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের দুর্ব্যবহার এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের পর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
রাহুল গান্ধী এক্সে লিখেছেন, “কয়েক ঘণ্টা ধরে শত শত সাংবাদিক সেখানে বসে আছেন, তাদের একটাই দাবি—এফআইআর দায়ের করতে হবে। এটা কি পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব নয়?” তিনি আরও বলেন, “দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহজি, আপনি কোথায়? এর জবাব আপনাকেই দিতে হবে।”
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে ‘হতবাক ও মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটি পুলিশকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ডিজিপাবও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সিপিআই (এম) এক্সে লিখেছে, “এফআইআর দায়েরের দাবিতে বিক্ষোভ করায় এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা এক নারী সাংবাদিককে দিল্লি পুলিশ আটক করেছিল। সোমবার ওই একই কর্মকর্তাকে অ্যাডিশনাল ডিসিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, অথচ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। এই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট হতে পারে না। নারী সাংবাদিকদের জন্য এর মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কি নিজেদের লোকজনকে দায়বদ্ধতার বাইরে রাখবে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। ক্ষমতাকে কোনোভাবেই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়।”
ভগতের পদোন্নতি নিয়ে সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, “দিল্লির এসিপি বিবেক ভগত, যিনি নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত, তাকে অ্যাডিশনাল ডিসিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ভারতে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে পদোন্নতি পাওয়া যায়। ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এখন এই পদোন্নতি দেওয়া হলো। আসলে কী চলছে! লজ্জাজনক!”
সূত্র : মাকতুব