ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের জীবনের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সম্প্রচারিত এক পূর্ব রেকর্ডকৃত ভিডিও ভাষণে এসব কথা বলেন আব্বাস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে মাহমুদ আব্বাস ও তার প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে পারেননি তিনি। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই নেতা।
ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আব্বাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি দেখার পরও বিশ্ব সম্প্রদায় আর কতদিন নীরব থাকবে এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে যাবে। ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সংঘাত নিরসনে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আব্বাস বলেন, দীর্ঘমেয়াদে গাজা উপত্যকাকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না। গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরকে একক রাষ্ট্র, একক সরকার এবং একই আইনের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। সেখানে একটি বৈধ সশস্ত্র বাহিনী থাকার কথাও বলেন তিনি।
মাহমুদ আব্বাস ২০০৫ সাল থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে তার নেতৃত্ব নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে।