যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে যাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানি আলোচকরা ‘অদ্ভুত’ আচরণ করছেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই সময়ক্ষেপণ করছেন।
তিনি দাবি করেন, ইরান সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তাদেরই চুক্তির জন্য আগ্রহী হওয়ার কথা, কিন্তু তারা বলছে প্রস্তাব বিবেচনা করছে—এটা ভুল।
ট্রাম্প আরও বলেন, “সময় শেষ হওয়ার আগেই তাদের সিরিয়াস হতে হবে। পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা মোটেও সুখকর হবে না।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এতে পাকিস্তান ছাড়াও মিশর ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শিগগিরই পাকিস্তান সফর করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেন—এমন খবর ছড়ালেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা অব্যাহত রাখে।
ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি হামাস ও হিজবুল্লাহ-এর মতো সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।
তবে তেহরান এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। তারা হরমুজ প্রণালি-এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন নৌ ও স্থল বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট