২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত মিলছে। এরই মধ্যে যুদ্ধের অবসানে ইরান পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এসব শর্ত মেনে নেয়া হলে সমঝোতার পথ খুলতে পারে, তবে হরমুজ প্রণালি ও মার্কিন ঘাঁটি নিয়ে তেহরানের দাবি নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর বলছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে হিব্রু গণমাধ্যম। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই শর্তগুলো সামনে এসেছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এ যুদ্ধ চলছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে এই সংঘাত নিরসনে ইরান কিছু কঠোর আনুষ্ঠানিক দাবি তুলে ধরেছে।

ইরানি একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তগুলো হলো:

১. যুদ্ধ যেন আর কখনো শুরু না হয়, সেটির শক্তিশালী নিশ্চয়তা দিতে হবে।

২. পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে।

৩. যুদ্ধের কারণে ইরানের হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৪. হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন একটি আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে; যার মাধ্যমে এ এলাকা মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৫. ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে অথবা তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে অতিরিক্ত আরেকটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। সেটি হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এ অঞ্চলের সব যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এর মধ্যে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা লড়াইও অন্তর্ভুক্ত।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। ব্যবস্থা নিতে বলেছে বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ‘এবার তারা (ইরান) বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে’।

টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনীর অসামান্য কর্মদক্ষতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে। তবে যা–ই ঘটুক না কেন, আমরা নিশ্চিত করব যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’

আমরা আশা করি একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে। তবে যা–ই ঘটুক না কেন, আমরা নিশ্চিত করব যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

বক্তব্যের শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরান এখন আরও একটি সুযোগ পেয়েছে। আমরা আশা করি, তারা এটি কাজে লাগাবে। যেকোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে এবং আমাদের পৃথিবী আরও স্থিতিশীল হবে।’